এই বর্ষায় ভ্রমণ নয় নিকলীর হাওরে

নিকলীর হাওর বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে এক বিস্তৃত জলরাশি। কখনো শান্ত, কখনো বা উত্তাল। দূর দিগন্তে অথৈ জলরাশির মধ্যে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা হিজল, করচ অথবা অন্য কোনো জলদ বৃক্ষ। আরও একটু দূরে গেলেই করচবনে ঢাকা ছাতিরচর গ্রাম। নদীর জলে মেঘ ও রোদের লুকোচুরি খেলার প্রতিচ্ছবি। সব মিলিয়ে অন্যরকম মুগ্ধতা।

কেউ পানিতে নামার ভয় পেলেও তাকে বঞ্চিত করে না নিকলীর হাওর। চাইলেই কোষ্যার মোড় থেকে ইজিবাইক নিয়ে ধীর গতিতে বেড়িবাঁধ ধরে চলে যাওয়া যেতে পারে মোহরকোনা গ্রাম পর্যন্ত। বেড়িবাঁধের এক পাশে অকৃত্রিম গ্রামীণ জনপদ, অন্য পাশে হাওরের অথৈ জলরাশি। বাঁধে আছড়ে পড়া ঢেও। বাতাসে উড়ে আসা ঢেওয়ের জলকনা।

যারা সাহসী, তারা নেমে যেতে পারেন বাঁধের কাছাকিছি কোথাও অগভীর জলে। অথবা পানিতে ডুবে থাকা পাকা সড়ক (সাব-মার্সিবল রোড) ধরে কিছুটা পথ হেঁটে আসা যায়। আর নৌকায় ছাতির চর, দামপাড়া অথবা মিঠামইন সড়ক পর্যন্ত ঘুরে আসার অভিজ্ঞতাও আনন্দময় নয়। নৌকার ছইয়ের উপর গা এলিয়ে দিয়ে দু’চোখ বন্ধ করে ঘুরে আসা যায় কল্পনার নানান রঙিন জগৎ থেকে।

তবে নভেল করোনাভাইরাস বাধ সেধেছে হাওরের সৌন্দর্য্য উপভোগে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নিকলী বেড়িবাঁধ ও হাওর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভ্রমণ ঠেকাতে মাঝেমধ্যেই মাঠে নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা করা হচ্ছে অনাহুত অতিথিদের। কখনো কখনো নিকলীর প্রবেশেমুখেই আটকে দেওয়া হচ্ছে মোটরবাইক, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার।

তাই এবার নিকলীর হাওর ভ্রমণের পরিকল্পনাটি তুলে রাখুন সিঁকেতে। কারণ ভ্রমণে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা আনন্দ ফিকে হয়ে যায়।

ও হ্যাঁ, আপনার কাছে স্থানীয় মাঝিদের নাম্বার থেকে থাকলে, আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলে আপডেট জেনে নিতে পারেন। কিন্তু খুব সাবধানে। রুটি-রুজির প্রশ্ন বলে এদের অনেকেই প্রকৃত সত্যটি কিন্তু চেপে যেতে পারে। আপনাকে প্রলুব্ধ করতে পারে, কিছুই হবে না এমন আশ্বাসে।

এ জাতীয় আরও প্রবন্ধ