করোনায় বন্ধ তাজমহল কুতুব মিনার….

করোনাভাইরাস থাবা বসিয়েছে ভারতের পর্যটনশিল্পে।প্রাণঘাতি রোগটির বিস্তার রোধে তাজমহলসহ দেশটির সব দর্শনীয় জায়গা বন্ধ রাখা হয়েছে। আপাতত পুরো মার্চ মাস এগুলো বন্ধ থাকবে। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে তৃতীয় ব্যক্তির মৃত্যু এবং নতুন সংক্রমণের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে,ভারত সরকারের পুরাতাত্ত্বিক নিরীক্ষণ বিভাগের (এএসআই) অধীনে মোট ৩ হাজার ৭০০ স্থাপত্য রয়েছে।এর সবই চলতি মাসের পুরো সময় জুড়ে বন্ধ থাকবে। এসব পুরাকীর্তির মধ্যে আছে- তাজমহল, ফতেপুর সিক্রি,আগ্রা ফোর্ট,লাল কেল্লা,কুতুব মিনার ইত্যাদি।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয় বলেছে,করোনা ভাইরাস মহামারি রূপে দেখা দেওয়ায় এর সংক্রমণ রুখতে আপাতত দর্শকদের জন্যে বন্ধ রাখা হবে বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্য তাজমহলের প্রবেশ দ্বার।

কয়েকশ বছরের ইতিহাসে এর আগে মাত্র দুইবার তাজমহল বন্ধ হয়েছিল। এরমধ্যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করলে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ করা হয় তাজমহল। এরপর ১৯৭৮ সালে প্রবল বন্যায় সাত দিনের জন্য বন্ধ করা হয় আগ্রার তাজমহল। তারপর আর বন্ধ হয়নি বিশ্বের এই সপ্তম আশ্চর্য। কিন্তু করোনার কালো থাবায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে তাজমহল।

 

এদিক,ভারত বিদেশি পর্যটকদের যাওয়ার ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, তুরস্ক ও ব্রিটেন থেকে যাত্রী নিয়ে আসা সমস্ত বিমান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।এছাড়ও সংযুক্ত আরব আমিরাত,কাতার,ওমান ও কুয়েত থেকে আগত মানুষজনকে ভারতে পৌঁছানোর পর বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের জন্যে কোয়ারান্টাইন করে রাখা।

চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন এবং জার্মানি থেকে ভারতে যাওয়া মানুষজনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য, অন্যদিকে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে ভারতে যাওয়ার সীমান্ত অঞ্চলগুলো আপাতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সব দেশের নাগরিকদের জন্য ভারত পর্যটন ভিসা বন্ধ রাখায় তাজমহল ও অন্যান্য পুরাকীর্তি বন্ধের সিদ্ধান্তে তেমন কিছুই যাবে আসবে না।

এ জাতীয় আরও প্রবন্ধ