দক্ষিণের গর্ব: গুঠিয়া মসজিদ

ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। চারিদিকে তাকালেই দেখা যাবে মসজিদ। এরমধ্যে রয়েছে নানা কারুকার্যখচিত এবং দৃষ্টিনন্দন অনেকগুলো মসজিদ। রয়েছে মুঘল আমলের বাদশাহদের তৈরি করা বহু পুরোনো মসজিদ। এছাড়া এখনকার সময়ের ধনী এবং সমাজসেবী মানুষের অর্থায়নে তৈরি হয়েছে দেশি-বিদেশি স্হাপত্যকলার মিশেলে চমৎকার সব মসজিদ। শুধু ঢাকাতেই নয়, দেশের প্রায় সবস্থানেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন এবং চমৎকার স্হাপনার মসজিদ। তেমনই একটি হলো বরিশালে অবস্হিত বায়তুল আমান জামে মসজিদ যা গুঠিয়া মসজিদ নামেই সমধিক পরিচিত।

গুঠিয়া মসজিদটি বাংলাদেশ এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জামে মসজিদ যেটি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত। বরিশাল শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে ১৪ একর জমির উপর বিশাল এই মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর গুঠিয়া ইউনিয়নের এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শুরু করেন। ২০০৬ সালে গুঠিয়া মসজিদ ও ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শেষ হয়।

দেশের অন্যতম সুন্দর মসজিদের একটি এই গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে একটি মসজিদ, সুদৃশ্য মিনার, ২০ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার ঈদগাহ্ ময়দান, একটি ডাকবাংলো, এতিমখানা, গাড়ি পার্কিং, পুকুর, লেক এবং ফুলের বাগান। মসজিদটিতে এক সঙ্গে প্রায় ১৫০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারে এবং মসজিদটির মিনারের উচ্চতা প্রায় ১৯৩ ফুট। মসজিদটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। এই মসজিদটি নির্মাণশৈলীতে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নামকরা মসজিদের ছাপ লক্ষ করা যায়। মসজিদটিতে উন্নতমানের কাঁচ, ফ্রেম, এবং বোস স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে। গুঠিয়া মসজিদটির তত্ত্বাবধানে ৩০ জন খাদেম সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। এই মসজিদটিতে মহিলাদের পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অসম্ভব সুন্দর এই গুঠিয়া মসজিদ দেখতে এবং নামায আদায় করতে প্রতিদিন হাজারো দর্শণার্থীর আগমন ঘটে। এছাড়াও মসজিদ কমপ্লেক্সে কাবা শরীফ, জমজম কূপের পানি, আরাফার ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নৃর, নবীজীর জন্মস্থান, মা হাওয়া এর কবর স্থান, খলিফাদের কবরস্থান, অন্যান্ন বিখ্যাত মসজিদ এবং বিখ্যাত জায়গার মাটি সংরক্ষন করা আছে, যা দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন।

কিভাবে যাবেন: মসজিদটি দেখতে হলে প্রথমে বিভাগীয় শহর বরিশাল আসতে হবে। বরিশাল থেকে সিএনজি কিংবা অটোরিক্সা যোগে ১১ কিলোমিটার দূরত্বের গুটিয়া মসজিদে যেতে পারবেন।

সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকার গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে ভোর ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নিয়মিত ভাবে বাস বরিশালের পথে যাত্রা করে। বাসগুলো সাধারণত পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশাল যায়, তবে কিছু বাস মাওয়া ঘাট পাড় হয়ে বরিশালের দিকে যায়। ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে থামে।

ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে হানিফ পরিবহন (01713-049559), ঈগল পরিবহন(02-9006700), শাকুরা পরিবহন (01729-556677) অন্যতম। বরিশাল যেতে এসি এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই রুটে বেশ কিছু লোকাল বাস চলাচল করে সময় বাঁচাতে এসব বাস এড়িয়ে চলাই উত্তম। এসব বাসে বরিশাল যেতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া লাগে।

কিন্তু ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো নৌপথ। ঢাকার সদরঘাট থেকে রাত ৮ টা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে সুন্দরবন ৭/৮, সুরভী ৮, পারাবত ১১, কীর্তনখোলা ১/২ লঞ্চ গুলো বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আর সকালে যেতে চাইলে গ্রিনলাইন লঞ্চে যেতে পারেন। রাতে যাত্রা করা লঞ্চগুলো ভোর ৫ টার দিকে বরিশাল পৌঁছায়। এসব লঞ্চের ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬০০ টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ভাড়া ৪৫০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন: বরিশালে বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে, যেগুলোতে অনায়াসে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল (01718-587698), হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা (01711-357318, 01917-458088), হোটেল প্যারাডাইজ টু ইন্টারন্যাশনাল (01717-072686, 01724-853590), হোটেল এথেনা ইন্টারন্যাশনাল (0431-65106, 0431-65233) উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন: নদী বিধৌত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালে মাছের প্রাচুর্যতা লক্ষণীয়। এছাড়া সামুদ্রিক খাবারের আয়োজনে বরিশাল অঞ্চলের বেশ সুখ্যাতি আছে। স্থানীয় রেস্টুরেন্টে দেশী ও স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়। স্হানীয় মিষ্টির কদর রয়েছে সবজায়গায়।

এ জাতীয় আরও প্রবন্ধ