বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার আগে করণীয়

একটা সময় বেড়াতে যাওয়া বলতে বাংলাদেশের মানুষ কক্সবাজার অথবা সুন্দরবনকেই বুঝতো। কিন্তু দিন এখন পাল্টেছে। এখন সামর্থ্যবান মানুষেরা হরহামেশাই বেড়িয়ে পড়েন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এমনকি আমেরিকা, ইংল্যান্ড ভ্রমণে। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় সবাই চিন্তা করেন ভালো কোনো জায়গা কিংবা দেশ থেকে ঘুরে আসতে। এদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো যান বিদেশে। তাই জেনে রাখা উচিৎ বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে কী করতে হবে আর কী পরিহার করতে হবে। এবারের আয়োজনে রইলো তেমন কিছু টিপস।

পরিকল্পনা করুনঃ ঘুরতে যাওয়ার জন্য চাই একটি নিখুঁত পরিকল্পনা। কোথায় যাবেন, কখন যাবেন, কোথায় কোথায় ঘুরবেন, বাজেট সমস্ত কিছুর একটি সুন্দর পরিকল্পনা আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে আকর্ষণীয়। যে দেশে ঘুরতে যাবেন সে দেশের ভিসা করা থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা করতে হবে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিনঃ সফরকালীন কী কী জিনিস লাগতে পারে, তার লিস্ট করবেন অথবা সে চিন্তা মাথায় রেখে জিনিসপত্র সাথে নেবেন। যে জিনিস লাগবে না বা লাগলেও তজ্জন্য অসুবিধায় পড়বেন না, সে জিনিস নেবেন না। কম জিনিস বহনের চেষ্টা করবেন।

আবহাওয়ার খোঁজ নিনঃ যে দেশে যাবেন, সে দেশে ঠান্ডা বা গরম কেমন, তা ইন্টারনেটে দেখে এবং আপনার অবস্থান-সময়ের আবহাওয়া রিপোর্ট জেনে তদনুযায়ী কাপড়-চোপড় নেবেন। ভিসা করাঃ পাসপোর্টে লাগানো ভিসা ভালো করে দেখে নেবেন। ভিসার মেয়াদ, ভিসায় আপনার নাম, পেশা এবং অন্যান্য তথ্য ঠিকমতো লেখা হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে নেয়া জরুরি।

পাসপোর্টের কপিঃ পাসপোর্ট ও টিকেটের ২টি ফটোকপি করিয়ে ১টি সর্বদা সাথে রাখবেন; অন্যটি সুটকেস বা লাগেজের পকেটে রেখে দিতে পারেন। পাসপোর্ট এবং টিকিট যেন না হারায়, সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকবেন।কয়েক কপি পিপি সাইজের ফটো, নোটবুক, কলম এসবও সাথে রাখবেন। অবশ্য অভিজাত প্লেনে এবং হোটেল রুমেও আপনার ব্যবহারের জন্য কাগজ-কলম থাকতে পারে।

পাসপোর্ট খোঁয়া গেলেঃ বিদেশ সফরকালীন কখনও পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে দ্রুত নিকটস্থ বাংলাদেশ এম্বেসীতে যোগাযোগ করবেন। আর টিকিট হারিয়ে গেলে টিকিট-ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অথবা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ঐ সিটি-অফিসে বা এয়ারপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করবেন।

ব্যাগ গোছানোতে সতর্কতাঃ হ্যান্ড লাগেজে লিকুইড কসমেটিকস্, ছুরি, কাঁচি, সুঁই, পানি বা তরলজাতীয় কোনোকিছু নেবেন না। চেক-ইনকালীন এগুলো না আটকালেও বোর্ডিংপূর্ব নিরাপত্তা তল্লাসীতে আটকাতে পারে। তখন তা বিনে ফেলে দিয়েই প্লেনে উঠতে হবে। পাঁচ কেজির বেশি ওজনের হ্যান্ড লাগেজ বা কেবিন ব্যাগ নেবেন না। সিঁড়ি বা এসকেলেটরে উঠাতে-নামাতে অসুবিধা হয়, এমন বড় হ্যান্ড লাগেজ নেবেন না। লাগেজে কোনো ভঙ্গুর জিনিস থাকলে উল্লেখ করে ব্যাগের গায়ে লিখে দেবেন। বুকিং লাগেজের ওজন টিকেটে উল্লেখিত ও অনুমোদিত পরিমাণের বেশি করবেন না। এক্ষেত্রে উদাসীন হলে তজ্জন্য চেক ইনকালীন হ্যাসেলে পড়তে হতে পারে। হয় অতিরিক্ত ওজনের জন্য ভাড়া গুণতে হবে, নতুবা আপনার প্রিয় জিনিস বিনে ফেলে যেতে হবে। কোনো লাগেজেই ম্যাগনেটিক, ফায়ার বা আগ্নেয়জাতীয় কোনো জিনিস বহন করবেন না। ম্যাগনেট বা আগ্নেয় জিনিস সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহৃত হয়; তাছাড়া এগুলো প্লেন চালনায় অসুবিধা সৃষ্টি করে। তাই নিরীহ ও সুবোধ যাত্রীর এসব বহন করার প্রয়োজন নেই।

ইমিগ্রেশনঃ বিদেশ সফরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইমিগ্রেশন এবং সিকিউরিটি সিস্টেম। টুইন টাওয়ার হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধিহেতু বন্দরগুলোর নিরাপত্তা কঠোর করা হয়। সেজন্য ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ককেও নিরাপত্তা তল্লাশিতে পড়তে হয়েছে। বন্দর নিরাপত্তারক্ষীদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় এখন তারা যদি বলে অমুক জিনিস আপনি বহন করতে পারবেন না বা তমুক জিনিস নিতে পারবেন না, তাহলে বিনা বাক্যে তা মেনে নিতে হবে এবং অনেক সাধ ও সাধ্যের জিনিস বিনা প্রতিবাদে বিনে ফেলে দিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে গোয়ার্তুমির কোনো সুযোগ নেই।

উপোরক্ত বিষয়গুলো মেনে চললেই আপনার বিদেশ ভ্রমণটি হবে আরো আনন্দময় ও সুখকর। তো করে ফেলুন একটি সুন্দর পরিকল্পনা এবং ব্যাগ গুছিয়ে চলে যান ঘুরতে। আর হ্যাঁ! বিদেশে গিয়ে এমন কোনো কাজ করবেন না যা আপনার দেশ সম্পর্কে অন্য দেশের মানুষকে খারাপ ধারণা দেয়। হ্যাপি জার্নি।

এ জাতীয় আরও প্রবন্ধ