ঢাকার ঐতিহ্য হাজির বিরিয়ানি

কোন রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানি সবচেয়ে ভালো? কিংবা কোন বিরিয়ানি স্বাদে অতুলনীয়? এমন প্রশ্ন হরহামেশাই শোনা যায় খাদ্যরসিকদের কাছ থেকে। ভোজনপ্রিয় মানুষ যারা বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য পুরান ঢাকা একরকম পবিত্র স্থান। এখানকার বিরিয়ানি খেয়ে ভোজনরসিকরা তাদের পেট ও মন দুইটাই তৃপ্ত করেন। কিন্তু পুরান ঢাকায় এত এত বিরিয়ানির দোকান, এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কোনটা?

‘সবচেয়ে’ ধরনের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া খুব কঠিন আসলে। কারণ স্বাদ নির্ভর করে বিভিন্ন অনুষঙ্গের ওপর, আবার পরিবেশ ও পরিবেশনার কারণেও ভালো খাবার খারাপ লাগতে পারে। ঢাকায় বেশ কিছু নামকরা বিরিয়ানি পাওয়া যায় যেগুলো স্বাদের কারণেই মানুষের পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের ৭০ নম্বর দোকানটি ঐতিহ্যবাহী হাজীর বিরিয়ানি নামে সবাই চেনে জানে। এ জন্য কর্তৃপক্ষ হয়তো দোকানে সাইনবোর্ড দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। দোকানটিতে নামসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও বেচাবিক্রির কোনো অংশে কমতি নেই। দোকানের কর্মচারীদের ব্যতিব্যস্ততার জন্য আমাদেরকেই কষ্ট করে পাশের দোকানের সাথে মিলিয়ে হাজীর বিরিয়ানির দোকানের নম্বর বের করতে হলো।

দোকানিদের সাথে কথা বলার সুযোগ নেই, এক রকম জোর করেই কথা বলা। সোহাগ নামে মধ্যবয়সী এক যুবক বড় হাঁড়ি থেকে বিরিয়ানি প্লেটে দিচ্ছেন। আর যারা পার্সেলে নেবেন তাদের শালপাতার মোড়ানো পাত্র স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে দওনা, তাতে দিচ্ছেন। সোহাগ জানায়, সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। দুপুরের পর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলের পর দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সুস্বাদু হাজীর বিরিয়ানি নিতে হয়। দোকানিদের খাবার সরবরাহ করতে করতে দেহ-মন ক্লান্ত তবু একটু অবসরের সুযোগ নেই। সপ্তাহের সাত দিনের চিত্র প্রায় একই রকম।

জানা যায়, ১৯৩৯ সালে কাজী আলাউদ্দিন রোডে বর্তমান দোকানটিতে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি বিরিয়ানির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই থেকে পথচলা। কালক্রমে বংশ পরম্পরায় হাজীর বিরিয়ানির মালিকানার দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ হোসেনের নাতি শাহেদ হোসাইন।

পুরান ঢাকার বাসিন্দারা খাবারের ব্যাপারে বেশ শৌখিন। খাবার ঠিকঠাক থাকলে সব ঠিক এমন ধ্যান-ধারণা তাদের। কাজী আলাউদ্দিন রোডে একাধিক বিরিয়ানির দোকান থাকলেও তুলনামূলক বিক্রি কম। পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বাইরের ভোজনরসিক মানুষজন বিরিয়ানির জন্য ভিড় করে এ দোকানটিতে।

হাজীর বিরিয়ানির আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো ঘি কিংবা চর্বিজাতীয় কোনো পদার্থ বিরিয়ানি রান্নায় ব্যবহার করা হয় না। কেবল সয়াবিন তেল এবং দেশীয় মসলা ব্যবহারে অতুলনীয় স্বাদের কারণে সব বয়সের মানুষের পছন্দ হাজীর বিরিয়ানি। প্রতি প্লেট হাজির বিরিয়ানি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা। হাজীর বিরিয়ানির আরো দুটি শাখা খোলা হয়েছে একটি ৯১ করিম চেম্বার, মতিঝিলে আর অন্যটি ক ১১/৬ বসুন্ধরা-বারিধারায়।

তো! আর দেরি কেন? চলে যান ঠিকানা ধরে হাজির বিরিয়ানি খেতে। খাওয়ার সাথে সাথে প্রিয়জনদের জন্য নিয়ে আসতে পারেন পার্সেল করে।

এ জাতীয় আরও প্রবন্ধ