পর্যটনে করোনার আঘাত

চীনের উহানে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উত্তাপ সারা পৃথিবী জুড়ে ছেয়ে গেছে। কোভিড-১৯ যা করোনা ভাইরাস নামে বেশি পরিচিত। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫০০ মানুষ মারা গেছে যার বেশিরভাগই চীনের নাগরিক। চীন ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়ার পরে এবার মধ্যপ্রাচ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। শুধুমাত্র স্বর্ণেই নয়, বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থা গুলো ভয়াবহ দিন পার করছে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে। বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে ধ্বস।

বিশ্বের অনেক দেশ করোনা ভাইরাসের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে সীমিত করেছে তাদের দেশের পর্যটন ব্যবসা। চীন থেকে কোনো নাগরিক অন্য কোনো দেশে যেতে যে পরিমাণ চেকিংয়ের শিকার হচ্ছেন তা রীতিমতো ভয়াবহ। এমনকি কোনো দেশের নাগরিক যারা বিভিন্ন কাজের জন্য চীনে বসবাস করছিলেন তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কাজেই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যার দেশ চীনের নাগরিকরা অন্য কোনো দেশে যেতে পারছেন না ভ্রমণের জন্য। অথচ এই সময়টা চীনের নতুন বর্ষের প্রস্তুতিতে ছুটির হিড়িকে পর্যটকরা বেড়াতে যান পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

সিঙ্গাপুরে ভ্রমণের জন্য এই সময়টা উপযোগী হলেও ভাইরাসের প্রভাবে এই দ্বীপ দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা একদম কমে গেছে। অপরদিকে থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য ইউরোপীয় এবং আমেরিকান পর্যটকদের কাছে খুবই পছন্দনীয় দেশ। অথচ গত বছরের তুলনায় এই বছরের এই সময়ে এসে থাইল্যান্ডে পর্যটক অর্ধেকেরও কম। এই ধাক্কা লেগেছে হংকংয়েও। আর কোভিড-১৯ এর দেশ চীনে এবার তুলনামূলক বেশি তুষারপাত হলেও একদম পর্যটক শূণ্য বিশ্বের সুপার পাওয়ার এই দেশটি।

করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুধু চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডই নয়, বরং পৃথীবির প্রতিটি দেশই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। এর প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন খাতেও। বিশ্বের অন্যতম পর্যটন বান্ধব দেশ ভারতেও করোনার আঘাতে নাস্তানাবুদ পর্যটন খাত। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ভারতে পর্যটকের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। মালদ্বীপের জিডিপির সিংহভাগই আসে পর্যটন শিল্প থেকে। ইউরোপীয়ান ও আমেরিকানদের জন্য তুমুল জনপ্রিয় এই দ্বীপ দেশটি পর্যটক মন্দায় ভুগছে।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতও পড়েছে হুমকিতে। করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা ৬০ ভাগ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এই সংগঠনের সভাপতি মোঃ রাফেউজ্জামান জানান, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের হুমকি মুক্ত থাকা সত্ত্বেও পর্যটক আসছে না দেশে। এতে করে পর্যটন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েও আন্তর্জাতিক পর্যটক শুন্য বাংলাদেশ। চীনের এই ভাইরাস শুধু মানুষের মৃত্যুতেই না, সাথে পর্যটন শিল্পকেও দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পৃথীবির প্রতিটি দেশ তাদের পর্যটন শিল্পে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও প্রবন্ধ